অশান্তিতে উত্তপ্ত জেলা থেকে জেলা, ভোট মেটার পরেই হিংসার কবলে বাংলা!

নির্বাচনী ফলাফলের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ভোট পরবর্তী হিংসা। শাসক থেকে বিরোধী— সব পক্ষের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠছে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে গুলি চালনার মতো ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বারুইপুর থেকে ডোমকল, রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে আসা সংঘাতের খবর রাজনৈতিক অস্থিরতাকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা ও মূর্তি ভাঙচুর

বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের সীতাকুণ্ড মোড়ে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই চিত্র দেখা গেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতেও, যেখানে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর মিলেছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে এক বামপন্থী মনীষীর আবক্ষ মূর্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, পুলিশের উপস্থিতিতেই একদল যুবক স্লোগান দিতে দিতে হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে এই ভাঙচুর চালায়। এছাড়া ভাঙড় ও সংলগ্ন এলাকায় আইএসএফ এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রশাসনের ভূমিকা

হিংসার এই প্রবাহে বাদ যাননি বাম কর্মীরাও। মুর্শিদাবাদের ডোমকলে সিপিএম কর্মী শফিকুল ইসলামকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালিয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই পরিস্থিতির জন্য বারবার পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব দাবি করেছে যে, অশান্তির ঘটনায় দল বা রং না দেখে যেন প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এলাকা দখলের লড়াই এবং দলের কর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণের অভাবেই এই হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সময়মতো কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে এই অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *