জোড়া আসনে শুভেন্দুর রেকর্ড জয়, শান্তিকুঞ্জে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও সাজ সাজ রব

বঙ্গ রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল বাংলা। বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্রেই জয়ী হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাঁথির অধিকারী নিবাস ‘শান্তিকুঞ্জ’ ঘিরে নিরাপত্তা বলয় আরও কঠোর করেছে রাজ্য পুলিশ। জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন সকালেই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তিনি, যেখানে রয়েছে তাঁর ঠাসা কর্মসূচি।

সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় প্রতিবেশীদের প্রণাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায় তাঁকে। এরপরই সল্টলেকের রাজ্য সদর দপ্তর ও মুরলীধর সেন রোডের পুরনো পার্টি অফিসের দিকে যাত্রা করেন তিনি। সেখানে জয়ী কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ ও পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারণের একাধিক বৈঠক রয়েছে তাঁর।

মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কি শুভেন্দুই সবচেয়ে এগিয়ে?

বিজেপির এই বিশাল জয়ের কারিগর হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নামই এখন দলের অন্দরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। নন্দীগ্রামে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করার পাশাপাশি ভবানীপুরেও নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন তিনি। রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া তৈরি এবং দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এছাড়া বিরোধী দলনেতা হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে বিধায়কদের বড় অংশের সমর্থন তাঁর পক্ষেই রয়েছে।

আগামী ২৫ বৈশাখ রাজভবনে শপথ

বাংলায় সরকার গঠন নিশ্চিত হওয়ার পর এখন মূল আলোচনার বিষয়—কে বসছেন রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে? আজ রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর উপস্থিতিতেই পরিষদীয় দলের বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর নাম। সূত্রের খবর, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৫ বৈশাখ এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলায় বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন।

নির্বাচনী ফলের এই প্রভাব কেবল রাজ্য রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় স্তরেও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, কার মাথায় ওঠে বাংলার পরবর্তী প্রশাসনিক মুকুট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *