“৭ তারিখ পর্যন্তই সময়, ইস্তফা দিতেই হবে!” মমতাকে চরম হুঁশিয়ারি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পথে থাকলেও, ভবানীপুর কেন্দ্রে পরাজিত হয়েও পদত্যাগ করতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্য বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৭ মে পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা, এই নির্দিষ্ট সময়ের পর ইস্তফা দেওয়া বা না দেওয়া অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।

গণনায় কারচুপির অভিযোগ ও সংঘাতের আবহ

বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং নথিপত্র কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে তাঁকে ‘জোর করে’ হারানো হয়েছে। গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার অনুযায়ী হারের পর মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা দস্তুর হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ইস্তফা দেবেন না। তাঁর এই অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তীব্র হয়েছে, কারণ ২০১১ সালে বামফ্রন্টের পরাজয়ের দিনই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।

বিজেপির কড়া বার্তা ও আগামী পদক্ষেপ

রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। বিজেপি স্পষ্ট করেছে যে, তারা কোনো ধরনের হিংসা বরদাস্ত করবে না এবং দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার দায়ভার নেওয়া হবে না। বিজেপির বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ইস্তফা না দিলে পরবর্তী আইনি বা সাংবিধানিক পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই অচলাবস্থা রাজ্যের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *