শীতের আগেই বাংলায় ঝরল জোড়াফুল, মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে আজই কলকাতায় আসছেন রাজনাথ সিং

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে সূচিত হলো এক বিশাল পরিবর্তন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করে বাংলার মসনদ দখল করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবারের নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে গেরুয়া শিবির এখন নবান্ন দখলের পথে। এই জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন সরকার গঠন ও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আজই কলকাতায় পা রাখছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রাজনাথের সফর ও সরকার গঠনের তৎপরতা

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্যাবিনেট বৈঠক সেরে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন রাজনাথ সিং। তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর আসার সম্ভাবনাও প্রবল। মূলত নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ম্যান্ডেট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদের চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করবেন তিনি। এরপর রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাতে রাজভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক মহলের মতে, শীত আসার আগেই রাজ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে কে এগিয়ে?

বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। তবে লড়াইয়ে সবথেকে জোরালো নাম হিসেবে উঠে আসছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্রেই বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক দাপট প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে ভবানীপুরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার বিষয়টি তাঁর দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য মুখ:

  • শুভেন্দু অধিকারী: দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী এবং দলের প্রভাবশালী মুখ।
  • দিলীপ ঘোষ: হিন্দুত্ববাদী ভাবমূর্তি ও দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা।
  • শমীক ভট্টাচার্য: দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় থাকলেও, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় তাঁর ক্ষেত্রে সাংবিধানিক জটিলতা রয়েছে।
  • স্বপন দাশগুপ্ত: তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে দলের শীর্ষ মহলে গ্রহণযোগ্যতা।

বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিশেষ নজর। তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য চুরমার করে বাংলায় এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রাজনাথ সিংয়ের এই সফর মূলত সেই সমীকরণকে এক চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া। এখন দেখার বিষয়, দিল্লির হাই কমান্ড শেষ মুহূর্তে ভূমিপুত্র হিসেবে কার ওপর বাংলার দায়িত্বভার অর্পণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *