শুভেন্দুর সেই ৫ শতাংশের হিসেবেই কি কুপোকাত তৃণমূল, বঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন

কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক বিবর্তনের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ দেড় দশকের মমতা শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের দখল নিতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সেই বহুল চর্চিত ‘৫ শতাংশ ভোটের সমীকরণ’ শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ নিল। তৃণমূলের থেকে ঠিক ৫ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েই এবার বাংলার মসনদে বসার পথে গেরুয়া শিবির।

৫ শতাংশের জাদুকরী সমীকরণ ও ক্ষমতার পালাবদল

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, এবার বিজেপি রাজ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে ৪১ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে তৃণমূলের ভোট ছিল প্রায় ৪৭.৯৪ শতাংশ, এবার তা ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪০.৮ শতাংশে। ঠিক উল্টো চিত্র বিজেপির ক্ষেত্রে; ৩৮.১ শতাংশ থেকে তাদের ভোটের হার ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি। শুভেন্দু অধিকারী বারবার দাবি করেছিলেন, ৫ শতাংশ ভোট এদিক-ওদিক করতে পারলেই কেল্লাফতে হবে। সেই লক্ষ্যপূরণেই এবার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে ঘাসফুল শিবিরের দাপট। বিশেষ করে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে জঙ্গলমহল ও পূর্ব মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলোতে তৃণমূল কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।

রেকর্ড ভোটদান ও মেরুকরণের প্রভাব

এবারের নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ২০১১ সালের রেকর্ড ভেঙে এবার প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোটদান হয়েছে, যা মূলত শাসকবিরোধী হাওয়া হিসেবেই কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর-এর মাধ্যমে প্রায় ৯০ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় ভুয়া ভোটের সুযোগ অনেকাংশেই কমেছে। দুর্নীতি, শিল্পায়নের অভাব এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সরাসরি ব্যালট বক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। এমনকি বাম-কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর সক্রিয়তায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কেও ফাটল ধরেছে, যার প্রত্যক্ষ সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০১৬-র মাত্র ৩টি আসন থেকে ২০২৬-এ দুইশোর গণ্ডি পার করে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করল গেরুয়া বাহিনী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *