ভোট লুটে মমতার পাশেই রাহুল, বাংলায় ১০০ আসন চুরির বিস্ফোরক অভিযোগে সরব ইন্ডিয়া জোট

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পটপরিবর্তন ও তৃণমূলের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। বিজেপি প্রথমবারের মতো নবান্ন দখলের পথে থাকলেও, গণনায় কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই একই সুরে সুর মিলিয়ে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির’ তোপ দাগলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার দুই নেতার মধ্যে ফোনে দীর্ঘ কথোপকথন হয়েছে বলে জানা গেছে, যা জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইভিএম ও কমিশনের বিরুদ্ধেই কি জোটবদ্ধ লড়াই?

ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এই পরাজয় জনমতের প্রতিফলন নয়, বরং এটি ‘মেশিন ও কমিশনের’ মিলিত কারসাজি। তাঁর দাবি, রাজ্যের ১০০টিরও বেশি আসনে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ফলাফল বদলে দিয়েছে। এই দাবিতে সিলমোহর দিয়ে রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আমরা মমতা জি-র সঙ্গে একমত। বাংলায় ১০০-র বেশি আসন চুরি করেছে বিজেপি।” রাহুল আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ মদতেই পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে এই ভোট লুঠ সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রদেশ বা হরিয়ানার মতো একই কায়দায় বাংলাতেও জয় ছিনিয়ে নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

পরাজয়ের ধাক্কায় নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

বাংলায় তৃণমূলের পতন এবং নিজের গড় ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিছিয়ে পড়ার ঘটনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে। তবে এই বিপর্যয়কে হাতিয়ার করে ইন্ডিয়া জোটকে পুনরায় সক্রিয় করার প্রক্রয় শুরু করেছেন রাহুল গান্ধী। সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম কে স্ট্যালিনকে ফোন করে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরাজয় বিরোধী শিবিরকে ইভিএম ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার প্রশ্নে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে।

বিজেপির এই জয়কে তৃণমূল ও কংগ্রেস উভয় পক্ষই চ্যালেঞ্জ করায় আগামী দিনে আইনি লড়াই ও রাজপথে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের এমন জোরালো অবস্থান নতুন বিজেপি সরকারের শাসনকাল শুরুর আগেই এক বড়সড় রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *