নিজ গড় ভবানীপুরে মমতার হার, বঙ্গে পালাবদলের ডাক দিয়ে বড় মন্তব্য অমিত শাহের
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ ১৫ বছর পর এক অভূতপূর্ব পটপরিবর্তন ঘটে গেল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সবচেয়ে বড় হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুরে পরাজিত হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, নিজের খাসতালুকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে হার মানতে হয়েছে তাঁকে। নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও শুভেন্দুর এই জয় গেরুয়া শিবিরের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করেছে।
অমিত শাহের আক্রমণ ও ‘অরাজক’ শাসনের অবসান
শুভেন্দু অধিকারীর এই গ্র্যান্ড ভিক্ট্রিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার মধ্যরাতে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ একটি বার্তায় তিনি ভবানীপুরের জনগণকে কুর্নিশ জানান। শাহ লিখেছেন, ভবানীপুরের রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে একজন অরাজক শাসকের ভবিষ্যৎ ঠিক কী হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য মুহূর্তেই রাজনৈতিক মহলে ভাইরাল হয়ে যায়, যা কার্যত তৃণমূল সরকারের শাসনের সমাপ্তি হিসেবেই দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই রায় কেবল একজন ব্যক্তির হার নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
ভোট লুটের অভিযোগ ও নৈতিকতার প্রশ্ন
পরাজয়ের পর কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি শতাধিক আসনে ভোট লুট করেছে এবং এই জয় সম্পূর্ণ অনৈতিক। নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও কমিশন যোগসাজশ করে এই ফল তৈরি করেছে। তবে পরাজয় মেনে নিলেও আবারও ফিরে আসার অঙ্গীকার করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
পরাজয়ের নেপথ্যে জনমানসের প্রতিফলন
বিশ্লেষকদের মতে, মমতার এই ‘ভরাডুবির’ পেছনে কাজ করেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের পরিবর্তে ভাতার রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের একাংশের অনীহা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ এই পালাবদলে বড় ভূমিকা পালন করেছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোয় বিজেপির এই উত্থান এবং মমতার নিজের গড়ে হার বঙ্গে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ নিশ্চিত করল। আপাতত কালীঘাটের অন্দরমহলে এই হার নিয়ে ময়নাতদন্ত শুরু হলেও, রাজ্য রাজনীতির রাশ যে এখন পরিবর্তনের দিকে, তা স্পষ্ট।