নিজেরই প্রিয় শিষ্যের কাছে ফের ধরাশায়ী মমতা, ভবানীপুরে বাজিমাত শুভেন্দুর

কলকাতা ৫ মে, ২০২৬। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। নিজের রাজনৈতিক স্কুলেরই ‘প্রাক্তন টপার’-এর কাছে দ্বিতীয়বার হারের মুখ দেখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১-এর নন্দীগ্রামের পর ২০২৬-এর ভবানীপুর—লড়াইয়ের কেন্দ্র পাল্টালেও ফলাফল বদলাল না। একদা তৃণমূল নেত্রীর ছায়াসঙ্গী তথা তাঁর অন্যতম প্রিয় সৈনিক শুভেন্দু অধিকারীই ফের হারিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

শিষ্যের হাতেই গুরুর পরাজয়

রাজনৈতিক মহলের দীর্ঘদিনের চর্চা ছিল যে শুভেন্দু অধিকারী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্কুল অফ পলিটিক্স’-এর সবথেকে উজ্জ্বল ছাত্র। তৃণমূল নেত্রীর লড়াকু মেজাজ এবং জনভিত্তি তৈরির কৌশল খুব কাছ থেকে শিখেছিলেন তিনি। কিন্তু দলীয় অন্দরে ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান এবং তাঁকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলে সেই প্রিয় ছাত্রই একসময় দূরে সরে গিয়েছিলেন। আজ সেই শুভেন্দুই পর পর দুবার পরাজিত করলেন তাঁর প্রাক্তন নেত্রীকে।

মোদী-শাহের স্বপ্নপূরণে শুভেন্দু

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ‘অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ’ জয়ের যে দীর্ঘকালীন লক্ষ্য ছিল, আজ শুভেন্দুর নেতৃত্বেই তা বাংলায় পূর্ণতা পেল। মূলত হিন্দু ভোটের সংহতি (Consolidation) এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সাজানো ‘ইকোসিস্টেম’ তছনছ করে দেওয়ার যে রণকৌশল শুভেন্দু সাজিয়েছিলেন, তা আজ বিজেপির এই বিপুল সাফল্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।

একাই রুখে দিলেন নবান্নের যাত্রা

তৃণমূলের প্রচার যখন ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ বা উন্নয়নের ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছিল, তখন শুভেন্দু অধিকারী লড়াইটাকে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্য মাত্রায়। বিশেষ করে ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিরোধী দলনেতার লড়াইয়ে তাঁর এই জয় রাজ্য রাজনীতির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির মোকাবিলা করতে শুভেন্দুর এই সরাসরি লড়াই এবং আগ্রাসী মনোভাবই শেষ পর্যন্ত ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে।

আজকের এই ফলাফল কেবল একটি আসনের জয়-পরাজয় নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে এক যুগের অবসান এবং গেরুয়া শিবিরের নতুন সূর্যোদয় হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে। যেখানে এককালের প্রিয় ছাত্রই তাঁর গুরুর নবান্নের পথ আটকে দাঁড়ালেন।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *