চূর্ণ অধীর দর্প, বহরমপুরের ‘শেষ দুর্গ’ ছিনিয়ে নিলেন বিজেপির সুব্রত!
মুর্শিদাবাদের রাজনীতির অলিখিত ‘রবিনহুড’ মিথ কি তবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিতে চলেছে? বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষত দগদগে থাকতেই নিজের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত বহরমপুর বিধানসভা আসনেও পরাস্ত হলেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী। গত লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের মধ্যেও যে বিধানসভা কেন্দ্রটি অধীরকে অক্সিজেন দিয়েছিল, এবার সেই শেষ আশ্রয়টুকুও হাতছাড়া হলো তাঁর। জয়ী হয়ে আসনটি ধরে রাখলেন বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক সুব্রত (কাঞ্চন) মৈত্র।
ত্রিমুখী লড়াইয়ে পর্যুদস্ত কংগ্রেস
বহরমপুরের এই লড়াই ছিল কার্যত অস্তিত্ব রক্ষার। একদিকে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া অধীর চৌধুরী, অন্যদিকে আসন ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। আর নেপথ্যে ছিল তৃণমূলের মরণপণ আক্রমণ। ভোটের ফল বলছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এখানে তৃতীয় হলেও, এবার অধীর নিজে লড়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তবে জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। বিজেপির সুব্রত মৈত্র নিজের জয়ের ধারা বজায় রেখেছেন, আর তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তৃতীয় স্থানে।
পতনের নেপথ্যে মেরুকরণ ও সাংগঠনিক ভাঙন
বিশ্লেষকদের মতে, অধীর চৌধুরীর এই পরাজয় আকস্মিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফসল। ২০১৬ সালের পর থেকেই মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল করতে শুরু করে তৃণমূল। ২০১৮-র পঞ্চায়েত ও ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল। গত লোকসভা ভোটে তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে হারের পর অধীরের যে দাপট আলগা হয়েছিল, এবার বহরমপুর বিধানসভাতেও ভোটাররা তার সিলমোহর দিলেন।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, একদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ব্যক্তি আক্রমণ ও প্রচারকাজে বাধার অভিযোগ, অন্যদিকে হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান— এই দ্বিমুখী চাপে পিষ্ট হয়েছে কংগ্রেসের হাত শিবির। সুব্রত মৈত্র কোনো বড় বিতর্কে না জড়িয়ে নিজের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে পারলেও, অধীর চৌধুরী তাঁর একদা রাজনৈতিক সহযোগী নাড়ুগোপালের কড়া চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই হারের ফলে মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটার প্রক্রিয়াটি পূর্ণতা পেল বলেই মনে করা হচ্ছে।