শিবপুরে রুদ্রনীলের একক আধিপত্য, বড় ব্যবধানে পিছিয়ে তৃণমূলের শ্রেয়া
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ের প্রবল দাপটে রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত একাধিক কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীদের জয়জয়কার পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বিশেষ করে নজরকাড়া তারকা লড়াইয়ে হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রে বড়সড় চমক দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ।
রুদ্রনীলের দাপুটে উত্থান
নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন রুদ্রনীল ঘোষকে ঘিরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। টেকনিশিয়ান ও ফেডারেশন সদস্যদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদও করেছিলেন। তবে ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সেই সমস্ত বিরোধিতাকে ছাপিয়ে রুদ্রনীল সাধারণ মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী, রুদ্রনীল প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই জয় নিছক নির্বাচনী জয় নয়, বরং এটি একটি ‘নৈতিক জয়’ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।
বিপর্যয়ের মুখে তারকা প্রার্থীরা
অন্যদিকে শিবপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ফল ঘোষণার আগের রাত পর্যন্ত তিনি জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকলেও, গণনা শুরু হতেই চিত্রটি বদলে যায়। বর্তমানে তিনি প্রায় ১৪ হাজার ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন। শুধু শ্রেয়া নন, অন্য তারকা কেন্দ্রগুলোতেও তৃণমূলের ভরাডুবি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বারাকপুরে রাজ চক্রবর্তী বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর কাছে পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়েছেন। বিপরীতে, বিজেপির টিকিটে লড়া অন্য দুই তারকা—হিরণ চট্টোপাধ্যায় শ্যামপুরে এবং রুদ্রনীল শিবপুরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছেন।
ফলাফলের সম্ভাব্য প্রভাব
এই জয় কেবল বিধানসভার পাটিগণিত নয়, বরং টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে নির্দিষ্ট একাধিপত্যের যে অভিযোগ রুদ্রনীল তুলে আসছিলেন, বিজয়ী হয়ে তিনি সেখানে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের এমন বিপর্যয় রাজ্যের শাসক দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।