ছাব্বিশের গণনায় কি ‘বিহার মডেল’ কাজ করছে! বিজেপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ তৃণমূলের
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন যত গড়াচ্ছে, রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ব্যাপক রদবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিজেপির কৌশলের দিকে আঙুল তুলল ঘাসফুল শিবির। গণনার শুরু থেকেই বহু আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের পিছিয়ে পড়া এবং গণনার মন্থর গতি নিয়ে এবার সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তৃণমূলের স্পষ্ট অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পরিকল্পিতভাবে ‘বিহার মডেল’ প্রয়োগ করে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
গণনায় শ্লথ গতি ও তৃণমূলের উদ্বেগ
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গণনার যে প্রবণতা সামনে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে শাসকদলের একাধিক বিদায়ী মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতা কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অত্যন্ত ধীরগতিতে ভোট গণনা করা হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১৩ শতাংশ ভোট গণনা হওয়ার তথ্য দিয়ে তৃণমূল দাবি করেছে, এটি আসলে কাউন্টিং এজেন্টদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি সুক্ষ্ম কৌশল। তৃণমূলের মতে, কমিশন বিজেপির নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছে এবং ইচ্ছে করে ফল ঘোষণায় দেরি করা হচ্ছে যাতে পরাজয়ের মুখে থাকা দল কারচুপির সুযোগ পায়।
বিতর্কে সেই রহস্যময় ‘বিহার মডেল’
তৃণমূলের এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বহুল আলোচিত ‘বিহার মডেল’। মূলত ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এই ধরণের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই মডেলে নিখুঁত গণনার অজুহাতে প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়। ফিনিশিং লাইনের কাছে এসে গণনার গতি কমিয়ে দিয়ে এবং ফরম পূরণে সময়ক্ষেপণ করে বিরোধী শিবিরের এজেন্টদের ক্লান্ত ও হতোদ্যোম করাই এর মূল লক্ষ্য। তৃণমূলের দাবি, ১০০-র বেশি আসনের সঠিক ফলাফল কমিশন সময়মতো জানাচ্ছে না, যা বড়সড় কোনো কারচুপির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে নয়, বরং কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই গণনা চলছে। এবারের কিছু প্রযুক্তিগত ও আইনি নিয়ম বেশ জটিল হওয়ায় প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে। শাসকদলের এই ‘বিহার মডেল’ তত্ত্বে আমল না দিলেও, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাঁর এজেন্টদের মনোবল ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণনার টেবিল না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই টানাপোড়েনের ফলে ছাব্বিশের ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।