বাংলায় পালাবদল না কি প্রত্যাবর্তন! ১৬৫-র বেশি আসনে জয়ের দাবি শুভেন্দুর
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ট্রেন্ডে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে থাকতেই সরকার গড়ার বিষয়ে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গণনার শুরুতেই বিজেপি ম্যাজিক ফিগার পার করবে দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, এবার বাংলাজুড়ে গেরুয়া ঝড় উঠতে চলেছে এবং দল ১৬৫-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।
শুভেন্দুর বিশ্লেষণে জয়ের সমীকরণ
শুভেন্দু অধিকারীর মতে, ভোট গণনার শুরুতেই ১৩৫টির বেশি আসনে বিজেপি এগিয়ে যাওয়া একটি বড় সংকেত। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে হিন্দু প্রধান এলাকাগুলোর ইভিএম বিজেপির পক্ষে কথা বলছে। নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভবানীপুরেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর ভাষ্যমতে, এবার মুসলিম ভোটব্যাঙ্কেও আগের মতো একচ্ছত্র আধিপত্য নেই তৃণমূলের, যা বিজেপির সরকার গড়ার পথ প্রশস্ত করছে।
ভবানীপুরে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজ্যের নজরকাড়া আসন ভবানীপুরে লড়াই চলছে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে। প্রতি রাউন্ডে লিড পরিবর্তিত হলেও প্রাথমিক ধাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এই লিডকে অস্থায়ী বলে মনে করছেন শুভেন্দু। স্ট্রংরুম নিয়ে তৃণমূলের তোলা অভিযোগকে ‘পরাজয় নিশ্চিত জেনে নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের প্রভাব সরাসরি সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগারে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছেন, বেলা বাড়ার সাথে সাথে চিত্রটি আরও পরিষ্কার হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী বিজেপি ১৬৫টি আসন স্পর্শ করতে পারে, তবে তা বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বর্তমানে সকলের নজর এখন চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলা কার দখলে।