প্রাথমিক ট্রেন্ডে কাঁটে কি টক্কর, নবান্ন কার দখলে সেই উত্তাপে ফুটছে বাংলা
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগণনার প্রাথমিক প্রবণতা বা ‘আর্লি ট্রেন্ড’ অনুযায়ী, ঘাসফুল ও পদ্ম শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বা ‘কাঁটে কি টক্কর’ পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রথম ঘণ্টার গণনা শেষে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক জায়গায় বিজেপি তৃণমূলকে সামান্য ব্যবধানে ছাপিয়ে গেলেও লড়াই চলছে সমানে-সমানে। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যবধান প্রতি মুহূর্তেই ওঠানামা করছে, যা বঙ্গবাসীর রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরিবর্তনের হাওয়া নাকি প্রত্যাবর্তনের হ্যাটট্রিক?
এবারের নির্বাচন নানা কারণেই ঐতিহাসিক। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাংলায় ৯২ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়েছে ভোটদানের হার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিনরাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের ঘরে ফেরা এবং তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবার বড় ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি যেখানে আরজি কর কাণ্ড এবং নারী সুরক্ষাকে হাতিয়ার করে ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ার ওপর ভরসা রাখছে, সেখানে তৃণমূলের বাজি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনমুখী প্রকল্প এবং গ্রামীণ বাংলায় দলের মজবুত ভিত্তি।
গণনাকেন্দ্রে কড়া নজরদারি ও বিবাদ
গণনা প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের খবর আসছে। বিশেষ করে ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে তৃণমূল ও বিজেপি এজেন্টদের মধ্যে বাদানুবাদ পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছে। স্ট্রং রুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে তৃণমূলের আশঙ্কার মাঝে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রায় ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে গণনাকেন্দ্রগুলো বর্তমানে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে।
ফলাফলের অভিমুখ ও আগামী কয়েক ঘণ্টা
প্রাথমিক প্রবণতায় বিজেপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইভিএম গণনার রাউন্ড যত বাড়বে, চিত্র তত বদলাতে পারে। দুপুর ১২টার মধ্যেই বাংলার মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসছেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চতুর্থ প্রত্যাবর্তন না কি বিজেপির প্রথম বিজয়—তার একটি স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাবে। আপাতত রাজ্যের ২৯৩টি আসনের প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফলের দিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছে আপামর জনতা। আগামী কয়েক ঘণ্টায় এই ‘ট্রেন্ড’ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।