‘ভোট লুঠ রুখতে একজোট হন’, গণনার আগে তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি শমীকের

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল গণনার দিন ‘ভোট লুঠ’ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দিয়েছেন তিনি।

আইনি জয় ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস গণনায় কারচুপির সুযোগ পাওয়ার আশায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল, কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে তাদের বড় ধাক্কা দিয়েছে। তিনি বলেন, “তৃণমূল ভোট লুঠের অধিকার চেয়েছিল, যা আদালত বরদাস্ত করেনি। এখন ওরা বিচ্ছিন্নভাবে ছোটখাটো গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু তাতে সফল হবে না।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা কৌশল হিসেবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, তৃণমূল লাঠি নিয়ে এলে বিজেপি শান্তিপূর্ণ কিন্তু প্রভাবশালী উপায়ে তার জবাব দেবে।

অবাধ ও সুষ্ঠু গণনার আশ্বাস কমিশনের

বিজেপি নেতৃত্বের এই উদ্বেগের মাঝেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৪ মে-র গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও অবাধ হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোনো প্রকার অশান্তির সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ-সহ রাজ্যের প্রতিটি কেন্দ্রে প্রস্তুতির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমেও জানিয়েছে কমিশন।

শান্তিপূর্ণ লড়াইয়ের বার্তা

শমীক ভট্টাচার্য এদিন কর্মীদের উদ্দেশ্যে সংযত থাকার পরামর্শও দেন। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “ওরা পতাকার সঙ্গে লাঠি আনুক, আমরা ঠান্ডা শরবত নিয়ে যাব। ঝটকাটা জোরেই লাগবে, কিন্তু কায়দা হবে ধীরস্থির।” মূলত গণনাকেন্দ্রের বাইরে ও ভেতরে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্ররোচনা রুখতেই বিজেপি নেতৃত্ব এবার এই ‘একজোট হওয়ার’ কৌশল গ্রহণ করেছে। সোমবারের গণনায় জনগণের রায় রক্ষা করাই এখন গেরুয়া শিবিরের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *