পাওয়ার গ্রাফে শুধুই অভিষেক! এবার ফ্রেম থেকেও উধাও সুব্রত বক্সী, তবে কি বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল তৃণমূল রাজ্য সভাপতির?

তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার রাশ বদল এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর ‘নেপথ্যে’ চলে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দলের রাজ্য সভাপতি পদে আসীন থাকলেও, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক আগে দলীয় কর্মসূচির মূল ফ্রেম থেকে তাঁর অনুপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতার ভরকেন্দ্রবিন্দুতে বদল

তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে মমতাপন্থী হিসেবে পরিচিত সুব্রত বক্সীর ক্ষমতা হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল প্রার্থীতালিকা ঘোষণার সময়ই। কালীঘাটের সেই সভায় প্রার্থীতালিকা তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ কোনো ভূমিকা ছিল না বলেই সূত্রের খবর। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগতদের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সফল হননি। শনিবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর অনুপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান ও ‘বক্সীদা’র অবস্থান

দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের কর্তৃত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই এই পরিবর্তনের ধারা স্পষ্ট। শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় প্রার্থীদের সঙ্গে যে ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে, সেখানে কেবল দিদি আর অভিষেককেই সামনের সারিতে দেখা গেছে। সুব্রত বক্সীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তাঁর শরীর ও মন—কোনোটিই ভালো যাচ্ছে না। আবার অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে, গত নভেম্বরেই তাঁকে বালিগঞ্জ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

বার্ধক্য বনাম তারুণ্যের লড়াই?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ‘বৃদ্ধতন্ত্র’ ক্রমশ গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে এবং সংগঠনের দখল নিচ্ছেন তরুণ নেতৃত্ব। সুব্রত বক্সীর রাজ্যসভার পুনর্মনোনয়ন না চাওয়া এবং রাজ্য সভাপতি পদের মেয়াদ ফুরিয়ে আসা—সব মিলিয়ে এটি একটি যুগের অবসান বলেই মনে করা হচ্ছে। লোকচক্ষুর অন্তরালে তাঁর এই চলে যাওয়া কি স্বেচ্ছাবসর, নাকি দলের কৌশলগত পরিবর্তন, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আগামী দিনের সাংগঠনিক রদবদলে তাঁর পদটি অন্য কারও হাতে যায় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *