গণনাকর্মী নিয়োগে বিভেদ নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বিজেপিকে আক্রমণ
ভোট গণনার ঠিক আগের দিন সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসক দল। গণনার কাজে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ব্রাত্য রেখে কেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ করা হবে—এই প্রশ্নে দায়ের হওয়া মামলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকেই বহাল রেখেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই রায়ের পর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কর্মীদের মধ্যে ‘বিভেদ’ নিয়ে সরব হয়ে বিজেপি ও কমিশনকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও আইনি লড়াই
গত ১৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন এক নির্দেশিকায় জানিয়েছিল, গণনাকেন্দ্রে ‘কাউন্টিং সুপারভাইজার’ ও ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে কেবল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের রাখা হবে। এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হলে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানায়, গণনার সময় কর্মীরা সম্পূর্ণভাবে কমিশনের অধীনে কাজ করেন, তাই তাঁদের পরিচয় নিয়ে তর্কের অবকাশ নেই। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যেহেতু সব দলের এজেন্টরা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন, তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তৃণমূলের তোপ ও ‘চণ্ডীগড়’ মডেলের আশঙ্কা
আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়েও তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রতি এই আচরণকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “রাজ্য সরকারি কর্মীরা কি তবে অচ্ছুত?” চণ্ডীগড় মেয়র নির্বাচনের ভোট চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিজেপি ও কমিশন পরিকল্পিতভাবে গণনায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, ‘ঘরপোড়া গরু’ হিসেবে তৃণমূল সতর্ক রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের দিয়ে গণনা করানোর এই জেদ আসলে স্বচ্ছতা নয়, বরং বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সোমবারের মহাযুদ্ধের আগে এই সংঘাত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।