ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা বনাম নজরদারি: স্ট্রংরুম পাহারায় বঙ্গ রাজনীতিতে নজিরবিহীন সংঘাত

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এবারের মূল লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইভিএম রাখা ‘স্ট্রংরুম’। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে রাজ্যজুড়ে নিশ্ছিদ্র পাহারার ডাক দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে কেন্দ্রগুলোতে রণক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মহিলা ব্রিগেডের পাহারায় তৃণমূল কংগ্রেস

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের বাইরে ২৪ ঘণ্টার পাহারায় বসেছেন তৃণমূল কর্মীরা। বিশেষ করে মহিলা সমর্থকদের উপস্থিতি এখানে চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের দাবি, গণনার আগে ইভিএমে কোনো প্রকার অননুমোদিত হস্তক্ষেপ বা যান্ত্রিক কারচুপি রুখতেই এই ‘পাহারা’। এটি কেবল নজরদারি নয়, বরং বিরোধী ও প্রশাসনের প্রতি একটি জোরালো রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল এবং বিধাননগরের মতো এলাকায় এই নজরদারি ঘিরেই চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

পাল্টা চালে ময়দানে বিজেপি

তৃণমূলের এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও ‘পরাজয়ের আগাম অজুহাত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। পাল্টাপাল্টি কৌশল হিসেবে বিজেপিও তাদের মহিলা মোর্চাকে স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থানে বসিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, শাসক দল আসলে পাহারার নামে গণনাকেন্দ্রের বাইরে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে কাউন্টিং এজেন্টদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও শ্লোগান-পাল্টা শ্লোগানে পরিস্থিতি বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

রণক্ষেত্রে পরিণত গণনাকেন্দ্র

ইভিএম কারচুপির অভিযোগ এবং নির্বাচনের পর স্ট্রংরুমে অননুমোদিত গতিবিধির খবরের জেরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই সংঘাত রুখতে নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র‌্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল প্রকাশের আগেই বাংলার রাজনৈতিক লড়াই এক নতুন ধাপে পৌঁছেছে, যেখানে ব্যালট বাক্সের সুরক্ষাই এখন সব দলের প্রধান এজেন্ডা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *