নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত: গোটা ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণা কমিশনের

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার অন্তিম লগ্নে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিল নির্বাচন কমিশনের এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার পুরো ভোটগ্রহণই বাতিল ঘোষণা করল কমিশন। শনিবার রাতে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোট নেওয়া হবে এবং এই কেন্দ্রের ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে। এর ফলে ৪ মে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনের ফলাফল জানা গেলেও, ফলতার ভাগ্য নির্ধারিত হবে আরও ২০ দিন পর।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি অশান্তি ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। অভিযোগ উঠেছিল, একাধিক বুথে ইভিএম-এর বিজেপি প্রতীকের বোতামে আঠা বা টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া বহু বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ রাখা এবং ছাপ্পা ভোটের গুরুতর অভিযোগ তোলে বিজেপি। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের স্ক্রুটিনি রিপোর্টে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা মেলার পরই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, টেপ খোলার আগেই ওই কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেছে বলে মনে করছে কমিশন।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক তৎপরতা

ফলতার এই পুনর্নির্বাচন ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে স্নায়ুর লড়াই তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এবং অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার দ্বন্দ্ব আগে থেকেই খবরের শিরোনামে ছিল। এবার গোটা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর ওপর বড় আঘাত বলে দাবি করছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। এই মেগা পুনর্নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কমিশন এখন থেকেই ওই এলাকায় বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *