গোর্খাদের আর করতে হবে না আন্দোলন, কার্শিয়াং থেকে বড় প্রতিশ্রুতি অমিত শাহের
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে উত্তপ্ত পাহাড়ের রাজনীতি। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি গোর্খা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা নিরসনে বড় আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে গোর্খাদের অধিকার আদায়ে আর রাস্তায় নামতে হবে না।
ছয় মাসের মধ্যে স্থায়ী সমাধান
পাহাড়ের রাজনৈতিক জটিলতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই গোর্খা সমস্যার এমন এক সমাধান সূত্র বের করা হবে, যা সরাসরি এই জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ৫ মে রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হলে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গোর্খা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত রাজনৈতিক ও ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। শাহের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দমন-পীড়নের মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করলেও বিজেপি আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি ফেরাবে।
ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর অঙ্গীকার
নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে প্রশাসনিক অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে শাহ জানান, বর্তমান সরকারের আমলে অনেক গোর্খার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকার ও ভোটদানের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। মূলত দুর্নীতি এবং নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পাহাড়ের মানুষের সেন্টিমেন্টকে স্পর্শ করাই ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিশ্রুতির ফলে পাহাড়ের ভোট সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
এক ঝলকে
- ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে গোর্খা সমস্যার স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধানের আশ্বাস।
- ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গোর্খা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি।
- ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাওয়া গোর্খাদের পুনরায় ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার।
- পাহাড়ের উন্নয়নে ও গোর্খাদের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ ও পরিবর্তনের ডাক।