সুস্থ লিভার পেতে শুধু মদ ছাড়লে হবে না, নজরে রাখুন এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো

লিভার নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে কেবল মদ্যপানকে দায়ী করার একটি ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত রয়েছে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, মদ্যপান না করেও অনেকে ফ্যাটি লিভার বা সিরোসিসের মতো মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে নিঃশব্দে লিভারের ক্ষতি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিপজ্জনক খাদ্যাভ্যাস ও স্থূলতা

অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এবং বেকারিপণ্যে থাকা ‘ফ্রুক্টোজ’ লিভারের জন্য বড় হুমকি। শরীর যখন এই বাড়তি চিনিকে চর্বিতে রূপান্তর করে লিভারে জমা করে, তখন ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার’ সৃষ্টি হয়। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবারের ট্রান্স-ফ্যাট এবং প্রিজারভেটিভ লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে প্রদাহ তৈরি করে। শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ওজনের আধিক্য পেটের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের চারপাশে মেদ জমিয়ে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভাইরাস ও সুরক্ষার উপায়

ভাইরাসজনিত সংক্রমণ লিভারের স্থায়ী ক্ষতির অন্যতম কারণ। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ এবং ই ছড়ায়, অন্যদিকে রক্ত ও শরীরের তরলের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি এবং সি ছড়িয়ে লিভারকে বিকল করে দেয়। এই ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম এবং খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশযুক্ত শাকসবজি রাখা জরুরি। শরীরের এই ‘পরিশোধন যন্ত্র’ ভালো রাখতে মদ্যপান ত্যাগের পাশাপাশি সুষম জীবনধারা বজায় রাখাই দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি।

এক ঝলকে

  • অতিরিক্ত চিনি, ফ্রুক্টোজ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার লিভারে ফ্যাট জমার প্রধান কারণ।
  • ব্যায়াম না করা এবং স্থূলতা লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি তৈরি করে।
  • হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ লিভারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমই লিভার সুরক্ষার কার্যকর উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *