টিসিএস-এ ধর্মান্তর বিতর্ক: জাতীয় মহিলা কমিশনের তদন্তের মুখে পলাতক নিদা খান
মহারাষ্ট্রের নাসিকে অবস্থিত টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) কেন্দ্রে ধর্মান্তরকরণ এবং নারী কর্মীদের ওপর যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জাতীয় মহিলা কমিশনের (এনসিডব্লিউ) তদন্তে উঠে এসেছে যে, পারিবারিক সংকট ও চরম দারিদ্র্যকে পুঁজি করে নারী কর্মীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা মূল অভিযুক্ত নিদা খান বর্তমানে পলাতক এবং তাঁর জামিনের আবেদনের ওপর আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বিপন্নতার সুযোগ ও মানসিক নিপীড়ন
তদন্তে জানা গেছে, আক্রান্ত নারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাঁদের ওপর নির্দিষ্ট ধর্মীয় এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়া হতো। এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তাঁর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং তাঁর কেমোথেরাপির খরচ জোগাতে তিনি বাধ্য হয়ে দীর্ঘদিনের লাঞ্ছনা মুখ বুজে সহ্য করেছেন। অন্য এক নারী কর্মী পরিবারের অন্নসংস্থানের তাগিদে এই নিপীড়ন মেনে নিতে বাধ্য হন। অভিযোগ উঠেছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমেও কর্মীদের ক্রমাগত হেনস্থা করা হয়েছে।
তদন্তে জাতীয় কমিশন ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতীয় মহিলা কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) সক্রিয় হয়েছে। মহিলা কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল নাসিক কার্যালয় পরিদর্শন করে সেখানকার কর্মপরিবেশ, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য নথি পরীক্ষা করেছে। ইতোমধ্যে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোও এই মামলার তদারকি করছে। মানবাধিকার কমিশন এই বিষয়ে মহারাষ্ট্র পুলিশ ও টিসিএস কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে।
এক ঝলকে
- নাসিকের টিসিএস কেন্দ্রে নারী কর্মীদের ধর্মান্তর ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ।
- ক্যানসার আক্রান্ত বাবা ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে কর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালানো হতো।
- প্রধান অভিযুক্ত নিদা খান পলাতক এবং পুলিশি তদন্ত অব্যাহত।
- জাতীয় মহিলা ও মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপে তদন্তে নতুন মোড়।