“কাল আবার খেলতে আসব”—প্রতিবেশীকে বলা কথাটাই শেষ কথা হলো ছোট্ট আলজোর! সাপের কামড়ে নিভে গেল প্রাণ
তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে খোলা রাখা জানলা দিয়েই ঘরে ঢুকল যম! বিষধর সাপের কামড়ে প্রাণ হারাল ৮ বছরের শিশু আলজো। কেরালার ত্রিশূরের কোডাসারিমালা পাদদেশের এক গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। একই ঘটনায় সাপের কামড়ে আলজোর বড় ভাই আনোশ বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
অসাবধানতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ
তদন্তে জানা গেছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে ওই পরিবার রাতের বেলা ঘরের জানলা খোলা রেখে ঘুমিয়েছিল। বাড়ির সামনের বারান্দা বা পারগোলায় কোনো কাঁচ লাগানো ছিল না, বরং সেখানে শোভা পাচ্ছিল ঘন হয়ে বেড়ে ওঠা আঙুর লতা। স্থানীয়দের ধারণা, দেওয়ালে চড়তে পারদর্শী এই বিষধর ‘কমন ক্রেট’ বা কালনাগিনী সাপটি আঙুর লতা বেয়েই খোলা জানলা দিয়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশগত ঝুঁকি
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়িটির মাত্র ৩০০ মিটারের মধ্যেই রাবার বাগান এবং সংলগ্ন বনভূমি অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বনাঞ্চল হওয়ায় এলাকায় মাঝেমধ্যেই সাপের উপদ্রব দেখা যায়। বিশেষ করে গত কয়েকদিন ধরে আশেপাশে সাপের ছোট বাচ্চা দেখা যাচ্ছিল। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তীব্র গরমে শীতল আশ্রয়ের খোঁজে অথবা খাদ্যের সন্ধানে সাপটি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আলজোর মৃত্যুতে তার পরিবার ও সহপাঠীরা বাকরুদ্ধ। সোমবার দুপুরে স্থানীয় গির্জায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
এক ঝলকে
অসাবধানতা ও তীব্র দাবদাহের কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেরালার ত্রিশূরে সাপের কামড়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আলজোর মৃত্যু এবং তার ভাইয়ের আশঙ্কাজনক অবস্থা।
গরমের কারণে জানলা খোলা রাখায় আঙুর লতা বেয়ে বিষধর সাপ ঘরে ঢুকে পড়েছিল।
বাড়ির কাছেই রাবার বাগান ও বনভূমি থাকায় বন্য প্রাণীর ঝুঁকি আগে থেকেই ছিল।