‘চাকরি দেবে দল’, মমতার আশ্বাসের মধ্যেই I-PAC-তে বড় রদবদল: নেপথ্যে কি তবে ED-র চাপ?

ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC) বাংলায় তাদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছিল, তৃণমূল কংগ্রেস তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেও সংস্থার সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ১৮ এপ্রিল মধ্যরাতে কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ ইমেলে জানানো হয়েছে, ‘অন্তর্বর্তী আইনগত কারণে’ আগামী ১১ মে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে সংস্থার কাজ স্থগিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কর্মীদের বড় অংশকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অফিশিয়াল ইমেল আইডি ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আইনি জটিলতা ও ধরপাকড়

সম্প্রতি কয়লা পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আই-প্যাকের কলকাতা অফিস এবং সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালায়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এই আইনি চাপ ও ধরপাকড়ই মূলত আই-প্যাকের স্বাভাবিক কাজকর্মে বড়সড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি ষড়যন্ত্র করে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচারের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে আই-প্যাক কর্মীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, প্রয়োজনে তাদের দলের পক্ষ থেকে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটকুশলী সংস্থার এই পিছু হটা বা কাজের ধরণ পরিবর্তন শাসক দলের প্রচার কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

এক ঝলকে

তৃণমূলের দাবি এটি বিজেপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যদিও কর্মীদের চাকরির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আইনগত কারণ দেখিয়ে ১১ মে পর্যন্ত বাংলায় আই-প্যাকের কাজ স্থগিত রাখার জল্পনা তুঙ্গে।

সংস্থার ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেল ইডি হেফাজতে রয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছে।

কর্মীদের অফিস আসা বন্ধ করে বাড়ি থেকে কাজ এবং অফিশিয়াল যোগাযোগ মাধ্যমে বিধিনিষেধ জারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *