অপরাজিতা বিল দ্রুত পাসে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

আরজি কর কাণ্ডের আবহে নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাস হওয়া ‘অপরাজিতা বিল’ কার্যকর করার দাবি জোরালো হচ্ছে। পানিহাটিতে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এক সভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির সম্মতির অপেক্ষায় থাকা এই বিলটি আইনে পরিণত হওয়া এখন সময়ের দাবি।

রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা

বক্তব্যের শুরুতেই বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক অভিযোগ করেন, গেরুয়া শিবির নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিচারিতা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা বিভিন্ন রাজ্যে নারী নির্যাতনে অভিযুক্তদের সম্মান জানায়, তারা কীভাবে ন্যায়বিচারের কথা বলে? আরজি করের ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সক্রিয়তার পরিচয় দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং পরিবারের পাশে থাকার বিষয়টিকেও তিনি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেন।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে উত্তপ্ত রাজনীতি

সামনেই দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন। ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের সেই মহারণের আগে আরজি কর ইস্যু এবং অপরাজিতা বিলকে হাতিয়ার করে মাঠ সাজাচ্ছে সব পক্ষই। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মানুষ যখন ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছিল, তখন বিজেপি বিষয়টিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছিল। তবে বিপক্ষ শিবিরের প্রার্থীর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে অভিষেক দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব আসন্ন ভোটের ফলাফলে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক ঝলকে

  • দ্রুত শাস্তির বিধান রাখা ‘অপরাজিতা বিল’ কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • আরজি কর কাণ্ডে রাজ্য সরকারের দ্রুত গ্রেপ্তারি ও প্রশাসনিক সক্রিয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
  • বিজেপি এই ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের।
  • আগামী ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বেশ টানটান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *