ট্রাম্পের পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে আগুন এবং সংকটে ভারত
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কৌশল ও আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়েছে। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্ট্রেট অফ হরমুজ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি খুলে দিলেও আমেরিকার পক্ষ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানো হয়। ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের দামে।
হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ডব্লিউটিআই (WTI) তেলের দাম ৬.৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৯.১৩ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৫.৫৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৫.৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে এবং তেলের দামে অস্থিরতা আরও স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের বাজারে প্রভাব ও বর্তমান চিত্র
বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও ভারত সরকার আপাতত অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে। আবগারি শুল্ক সমন্বয় এবং তেল সংস্থাগুলোর ওপর সরকারি চাপের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি বোঝা চাপানো হয়নি। তবে এলপিজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে গত মাসেই দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রোল ১০৫.৪১ টাকা এবং ডিজেল ৯২.০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এক ঝলকে
- স্ট্রেট অফ হরমুজ বন্ধ হওয়ার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ২০ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা।
- আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
- তেলের দাম বাড়লেও ভারতের মহানগরগুলোতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
- সরকারি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেলেও খুচরা বাজারে সাধারণ তেলের দামে হস্তক্ষেপ করছে কেন্দ্র।