স্বামী নয়, প্রেমিকের সাথেই এবার নতুন জীবন! হাইকোর্টের নজিরবিহীন রায়ে মিলল সুরক্ষা!

ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাধীনতার অধিকার সমুন্নত: প্রেমিকের সাথে থাকার অনুমতি দিল গোয়ালিয়র হাইকোর্ট

ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাধীনতার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে গোয়ালিয়র হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করেছে। ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী তাঁর ৪০ বছর বয়সী স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে অস্বীকার করায় আদালত তাঁকে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে থাকার অনুমতি দিয়েছে। বিচারপতি আনন্দ পাঠক ও বিচারপতি পুষ্পেন্দ্র যাদবের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত জানিয়েছে, যেহেতু তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক, তাই নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, দাম্পত্য জীবনে বয়সের বিস্তর ব্যবধান এবং মানসিক অমিল থাকলে কাউকে জোর করে সম্পর্কে আটকে রাখা যায় না।

মামলাটি মূলত একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ বা বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ পিটিশনের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল। তরুণীর স্বামী অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর স্ত্রীকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তবে আদালতে উপস্থিত হয়ে ওই তরুণী অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে জানান, তিনি কোনো চাপে নেই বরং স্বেচ্ছায় স্বামীর ঘর ছেড়েছেন। তাঁর দাবি, ২১ বছরের বড় স্বামীর সঙ্গে তাঁর কোনো মানসিক বা আবেগগত মিল ছিল না এবং তিনি সেখানে নিগ্রহের শিকার হচ্ছিলেন। সরকারি আইনজীবীর মাধ্যমে কাউন্সেলিং করানো হলেও তরুণী নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন এবং প্রেমিকের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

আদালত কেবল তরুণীকে প্রেমিকের সাথে যাওয়ার অনুমতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তাঁর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী ৬ মাসের জন্য সরকারি আইনজীবী অঞ্জলি জ্ঞানানি এবং লেডি কনস্টেবল ভাবনাকে তরুণীর ‘শৌর্য দিদি’ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা নিয়মিত ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন এবং তাঁর কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা হচ্ছে কি না, সেদিকে নজরদারি করবেন। প্রেমিকের পক্ষ থেকেও আদালতে লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তিনি তরুণীর সম্পূর্ণ যত্ন নেবেন এবং কোনো প্রকার অমর্যাদা করবেন না। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে ওয়ান স্টপ সেন্টার থেকে মুক্তি পেলেন ওই যুগল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *