বিরোধীদের নারী-বিদ্বেষ ফাঁস! মোদীর কড়া নির্দেশ।

২০২৯ লোকসভা নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষণ: সরকারি দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক সংঘাত

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বৈঠকে জানিয়েছেন, এই বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলগুলো একটি ঐতিহাসিক ভুল করেছে এবং এর জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে বিরোধীদের এই “নারী-বিদ্বেষী” অবস্থান সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়।

সংবিধান সংশোধনী বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে লোকসভায় পাশ হতে না পারার পর রাজনৈতিক সংঘাত তুঙ্গে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বিরোধীরা এখন নিজেদের নেতিবাচক ভূমিকার ওপর পর্দা ফেলার জন্য নানা অজুহাত দেখাচ্ছে। এই বিলের ব্যর্থতা নারীর ক্ষমতায়নের পথে একটি বড় বাধা বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও এই বিষয়ে সুর চড়িয়েছেন এবং ডিএমকে ও কংগ্রেসের মতো দলগুলোর দূরদৃষ্টির অভাবের কারণেই তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যের মতো বিধানসভা ও সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলে তাঁর মত।

অন্যদিকে, বিরোধীরাও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি দাবি করেছেন, এই বিলের পরাজয় আসলে বিজেপির আদর্শকে মানুষের প্রত্যাখ্যান করারই নামান্তর। তিনি অভিযোগ করেছেন, সংরক্ষণের আড়ালে বিজেপি সংবিধান পরিবর্তন করে অনগ্রসর ও আদিবাসীদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু বিরোধীদের এই পদক্ষেপকে “ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, নারীর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়ার জন্যই এই বিলটি অত্যন্ত অপমানজনকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক টানাপড়েন আগামী নির্বাচনগুলোতে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *