সেলাই শিখতে গিয়ে অচিনপুরে! ৭০ হাজারে শরীর বিক্রি, নিখোঁজ দুই তরুণী!

দর্ভাঙ্গায় মানব পাচার চক্রের পর্দাফাঁস, দুই কিশোরীর একজন উদ্ধার, অন্যজন নিখোঁজ

বিহারের দর্ভাঙ্গা জেলায় মানব পাচারের এক ভয়াবহ সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস হয়েছে। দর্ভাঙ্গার ভালপট্টি থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই কিশোরীর মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনের সন্ধান এখনও মেলেনি। সেলাই শেখানোর নাম করে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে সরলমনা কিশোরীদের বাড়ি থেকে বের করে আনা হত। পরবর্তীতে তাদের মোতিহারি ও মুজাফফরপুর হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার পাঞ্জিপাড়া রেড লাইট এরিয়ায় চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, পাচারকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটিত করেছে। গত বছরের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরীকে মাত্র ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে পূর্ণিয়ার এক দালালের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, যে তাকে পরবর্তীতে নিষিদ্ধ পল্লীতে পাচার করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে পাঞ্জিপাড়া এলাকা থেকে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পকসো (POCSO) আইন ও মানব পাচারের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া এক কিশোরী চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সহায়তায় বাড়ি ফিরলেও নিখোঁজ অন্যজনকে নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠছে যে, দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে পাচার চক্রের মূল হোতাদের এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দর্ভাঙ্গা পুলিশ আসামীদের রিমান্ডে নিতে দেরি করায় তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের অভাবকে পুঁজি করে আন্তঃরাজ্য সীমান্ত এলাকাগুলোতে এই ধরনের পাচার চক্রের সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *