“মূল্য চোকাতে হবে” বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ মোদীকে!
লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাসে ব্যর্থ মোদী সরকার, রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ছে
আজকের দিনে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। ১২ বছরের শাসনামলে এই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার লোকসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিল পাসে ব্যর্থ হয়েছে। ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাভে ব্যর্থ হওয়ায় আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। এই পরাজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লির সংসদ ভবনে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, বিরোধী পক্ষকে এই বিরোধিতার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তাদের এই ভুলের জন্য সারাজীবন আক্ষেপ করতে হবে।
নারী সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন: রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু
প্রধানমন্ত্রী মোদীর অভিযোগ, বিরোধী পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে মহিলাদের ক্ষমতায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি বিরোধীদের ‘নারী বিদ্বেষী’ তকমা দিয়ে দাবি করেন যে, এই বিল আটকে দিয়ে দেশের সাধারণ মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য এখন এই বার্তা দেশের প্রতিটি কোণায়, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছে দেওয়া, যাতে মানুষ বিরোধীদের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে মোদী সরকারের এক বড় পরাজয় হিসেবে দেখছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা দিনটিকে ‘এনডিএ-র জন্য কালো দিন’ বলে অভিহিত করেছেন। বিরোধীদের মূল আপত্তি ছিল নারী সংরক্ষণের সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে জুড়ে দেওয়া নিয়ে। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার ফলে বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে।
ভোটাভুটির ফলাফল এবং বিলের লক্ষ্য
৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করলেও বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫২টি ভোট সংগ্রহ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বিলের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ায় সংবিধান সংশোধন সম্ভব হয়নি। এই বিলের মূল লক্ষ্য ছিল ২০২৯ সালের মধ্যে লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা। এই ব্যর্থতা আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।