অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৬! সোনা নয়, মহিলাদের প্রথম পছন্দ এখন এই নতুন চমক!
অক্ষয় তৃতীয়ায় ভারতীয় বাজারে ‘স্মার্ট শপিং’-এর উত্থান: হালকা গহনা ও হীরার চাহিদা বৃদ্ধি
২০২৬ সালের অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে ভারতীয় বাজারে সোনা ও রূপা কেনার চল অব্যাহত থাকলেও ক্রেতাদের আচরণে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে সোনার অগ্নিমূল্যের প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রথাগত ভারী গহনার বদলে ‘স্মার্ট শপিং’ মূল ধারায় পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাসে কেনাকাটা চললেও, ক্রেতারা এখন অনেক বেশি বাস্তবমুখী ও কৌশলী হয়ে উঠেছেন, যেখানে হালকা ও আধুনিক নকশার গহনার চাহিদা বাড়ছে।
মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির নারীদের মধ্যে বিশেষ করে হালকা ওজনের (“লাইট-ওয়েট”) গহনার চাহিদা তুঙ্গে। ভারী হার বা চুরির পরিবর্তে দৈনন্দিন ব্যবহার উপযোগী ও কর্মক্ষেত্রে পরার মতো আধুনিক নকশার গহনা প্রাধান্য পাচ্ছে। গহনা কেনার ক্ষেত্রে ‘রিসেল ভ্যালু’ বা পুনঃবিক্রয় মূল্যের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, তরুণ প্রজন্ম সোনাকে কেবল সম্পদ নয়, বরং একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে দেখছে। এর ফলে স্লিক ব্রেসলেট, পাতলা চেইন এবং ছোট টপসের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা গহনা পরতে আগ্রহী নন, তারা নিছক বিনিয়োগের লক্ষ্যে সোনার কয়েন বা মুদ্রাকে একটি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
বাজারের এবারের উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হল প্রাকৃতিক হীরার প্রতি ক্রমবর্ধমান চাহিদা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হীরা এখন শুধু আভিজাত্যের প্রতীকই নয়, বরং একটি শক্তিশালী সম্পদ বা অ্যাসেট হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা আন্তর্জাতিকভাবে সার্টিফাইড প্রাকৃতিক হীরার দিকে ঝুঁকছেন, যা ভবিষ্যতে ভালো মুনাফা অর্জনে সহায়ক হতে পারে। একদিকে যেমন গহনার উপযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। এই প্রথাগত ও আধুনিকতার মিশেল ২০২৬ সালের অক্ষয় তৃতীয়া ভারতীয় স্বর্ণ বাজারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যেখানে ‘বাজেট ফ্রেন্ডলি’ ও ‘স্মার্ট’ কেনাকাটা প্রধান হয়ে উঠেছে।