সাবধান! এই ভুলে হারাতে পারেন নিজের পা, এখনই সচেতন হোন!
বর্তমান ডেস্কঃ
নিঃশব্দ ঘাতক পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ: অবহেলাই ডেকে আনছে পঙ্গুত্ব
বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির তালিকায় অন্যতম আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ’ (PAD)। মূলত পায়ের রক্তনালী সরু হয়ে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই এই রোগের সৃষ্টি হয়। হৃদরোগের মতোই ধমনীতে প্রতিবন্ধকতা তৈরির ফলে পায়ের কোষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। ফলে সামান্য অবহেলা থেকেই রোগীর পায়ে তীব্র ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত এমনকি গ্যাংগ্রিন সৃষ্টি হতে পারে, যা শেষপর্যন্ত পা কেটে বাদ দেওয়ার মতো চূড়ান্ত পরিণতি ডেকে আনে। বয়স্ক এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেশি দেখা যাচ্ছে।
দ্রুত চিকিৎসা ও সতর্কতার গুরুত্ব
চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পিএডি (PAD) শনাক্ত হওয়ার পর যদি দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আসা সম্ভব হয়, তবে অঙ্গহানি বা অ্যামপুটেশনের ঝুঁকি ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা যায়। হাঁটার সময় পায়ে অসহ্য ব্যথা, আঙুলের রঙ পরিবর্তন হওয়া বা ক্ষত শুকাতে দীর্ঘ সময় লাগা এই রোগের স্পষ্ট ইঙ্গিত। তাই এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ধূমপান বর্জন এবং শর্করা নিয়ন্ত্রণই এই রোগ থেকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দিতে পারে।
এক নজরে
- পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ মূলত পায়ের রক্তনালীর সরু হয়ে যাওয়া সম্পর্কিত একটি জটিল রোগ।
- ৬৫োর্ধ্ব ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
- সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে পা কেটে ফেলার ঝুঁকি ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
- নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণই এই রোগ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।