মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা!
বর্তমান ডেস্কঃ
সংসদের বিশেষ অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিল: রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নারীশক্তি
সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ চরমে। এই অধিবেশনে কেন্দ্র সরকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’ পেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় জানিয়েছেন, দেশের নারীশক্তিকে ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যেই সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, এই বিশেষ অধিবেশনে সংবিধানের ১৩১-তম সংশোধনী বিলসহ আসন পুনর্বিন্যাস ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত বিলের পাশাপাশি নারী সংরক্ষণকেই প্রধান এজেন্ডা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিরোধীদের অবস্থান ও রাজনৈতিক সমীকরণ
মহিলা সংরক্ষণ ইস্যুতে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিরোধীদের স্পষ্ট দাবি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই যেন ৩৩ শতাংশ নারী আসন সংরক্ষণ কার্যকর করা হয়। তবে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা থাকলে তারা তার কঠোর বিরোধিতা করবে বলে জানিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসন অপরিবর্তিত রেখেই সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রস্তাবিত আসন সংখ্যা ৮৫০-এ উন্নীত করার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে বিরোধী জোট একযোগে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বিল রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে নারী ভোটারদের মন জয় করার মাধ্যমে সরকার নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে নির্বাচনী সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করছে। বিলটি পাস হলে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে ঠিকই, তবে আসন পুনর্বিন্যাসের দাবি ও নীতি নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের এই বিরোধ সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এক নজরে
- সংসদের বিশেষ অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত মহিলা সংরক্ষণ বিল।
- লোকসভায় ৩৩ শতাংশ নারী আসন সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।
- বর্তমান ৫৪৩টি আসন অপরিবর্তিত রেখেই সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে বিরোধী শিবির।
- আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলে সংসদে তীব্র বিরোধিতার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।