জেসপ ও ডানলপ অধিগ্রহণে কেন্দ্রের বাধা নিয়ে সরব মমতা

ডানলপ এবং জেসপের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘ দশ বছর ধরে ঝুলে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার শ্রীরামপুরের একটি জনসভা থেকে তিনি এই অচলাবস্থার জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেন। রাজ্যের পাস করা বিল দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় কয়েক হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিধানসভায় বিল পাস ও বর্তমান স্থিতি
শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার লক্ষে রাজ্য সরকার আইনি পদক্ষেপ নিলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসা মূল বিষয়গুলো হলো:
- রাজ্য বিধানসভায় ডানলপ ও জেসপ অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় বিল অনেক আগেই পাস করা হয়েছে।
- ২০১৬ সাল থেকে অর্থাৎ প্রায় ১০ বছর ধরে এই অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিলটি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পড়ে রয়েছে।
- কেন্দ্রীয় অনুমোদনের অভাবেই রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে পারছে না।
রাজনৈতিক প্রভাব ও মালিকপক্ষের ভূমিকা
মুখ্যমন্ত্রী এই প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার পেছনে রাজনৈতিক সমীকরণকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই কারখানাগুলোর মালিকপক্ষের সাথে বিজেপির ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এই বিশেষ সম্পর্কের কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার বিলটি ছাড়পত্র দিচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, মালিকপক্ষকে বাড়তি সুবিধা দিতে গিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
জেসপ ও ডানলপ পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ইতিহাসের অন্যতম বড় নাম। এই কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। রাজ্য সরকার কারখানাগুলো অধিগ্রহণ করে শ্রমিকদের বকেয়া মেটানো এবং কর্মসংস্থানের নতুন পথ তৈরি করতে চাইলেও আইনি জাঁতাকলে তা থমকে আছে। কেন্দ্র-রাজ্য এই সংঘাতের ফলে সাধারণ শ্রমিকরা অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একঝলকে
- ঘটনা: ডানলপ ও জেসপ কারখানা অধিগ্রহণে বিলম্ব।
- মূল অভিযোগ: কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৬ সাল থেকে অধিগ্রহণ বিল আটকে রেখেছে।
- রাজনৈতিক দাবি: মালিকপক্ষের সাথে বিজেপির ঘনিষ্ঠতার কারণেই এই বাধা।
- উদ্দেশ্য: শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা।
- বর্তমান অবস্থা: ১০ বছর ধরে আইনি জটিলতায় ঝুলে আছে দুই কারখানার ভবিষ্যৎ।