বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিদ্ধ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিদ্ধ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় এক জনসভায় তাঁর দেওয়া বেশ কিছু মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বিজেপির দাবি, এই ধরণের বক্তব্য কেবল অগণতান্ত্রিক নয়, বরং তা সরাসরি নির্বাচনোত্তর হিংসাকে উস্কানি দেওয়ার শামিল।

অভিষেকের বিতর্কিত মন্তব্য ও বিজেপির অভিযোগ

পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় আয়োজিত সেই নির্বাচনী সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বিজেপির সমালোচনা করেন। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিষেক তাঁর বক্তব্যে বলেন— ‘উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিজেপির ঘাড় ভেঙে দেওয়া হবে।’ পরবর্তীতে তিনি ‘মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া’র হুঁশিয়ারিও দেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। তাঁদের দাবি:

  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।
  • এই ধরণের ভাষা ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে এবং রাজনৈতিক কর্মীদের হিংসায় প্ররোচিত করতে পারে।
  • নির্বাচন চলাকালীন এই ধরণের উস্কানিমূলক প্রচার বন্ধ করতে কমিশনকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।

সেন্সরশিপের দাবি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারের ওপর ‘সেন্সর’ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানিয়েছে। তাদের মতে, কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার মুখে এমন ‘হিংসাত্মক’ শব্দ প্রয়োগ মানায় না। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের উত্তাপে দুই প্রধান শিবিরের বাদানুবাদ এখন চরমে। উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল—যেখানে বিজেপির ভালো জনভিত্তি রয়েছে, সেখানে তৃণমূলের এই আক্রমণাত্মক কৌশল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের অপেক্ষা

নির্বাচন কমিশন বিজেপির এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা নেতা এমন কোনো মন্তব্য করতে পারেন না যা জাতি, ধর্ম বা রাজনৈতিক বিদ্বেষ তৈরি করে। এখন দেখার বিষয়, কমিশনের পক্ষ থেকে অভিষেকের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয় নাকি প্রচারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

একঝলকে

  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী ভাষণে ‘ঘাড় ভেঙে দেওয়া’র মতো মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক।
  • পূর্ব বর্ধমানের রায়নার জনসভাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ দায়ের।
  • বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে নালিশ এবং অভিষেকের প্রচার সেন্সর করার দাবি।
  • অভিযোগের মূল ভিত্তি—নির্বাচনী বিধিভঙ্গ এবং হিংসায় মদত দেওয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *