ভোটের মুখে হঠাৎ বৃষ্টিতে ফাঁস তৃণমূলের গামলা তত্ত্ব বরানগর ও কামারহাটিতে জোড়াতালি দিতেই বিপত্তি
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই উত্তর শহরতলির নাগরিক পরিষেবার কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকাশ্যে এনে দিল এক পশলা বৃষ্টি। বরানগর ও কামারহাটি এলাকার বেহাল রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা এবং ফুটপাতের দুরবস্থা এখন ভোটারদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, খোদ তৃণমূলের এক নেতার করা ‘গামলা’ মন্তব্যকেই এখন হাতিয়ার করছেন বিরোধীরা।
উন্নয়নের জোড়াতালি ও বৃষ্টির বাগড়া
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ভোট ঘোষণার পর কামারহাটির কিছু অংশে তড়িঘড়ি পিচের প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সোমবার ও মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টি সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে বেহাল রাস্তা নিয়ে কোনো হেলদোল ছিল না প্রশাসনের। এখন ভোটের ঠিক দুদিন আগে দায়সারাভাবে রাস্তা মেরামতের যে চেষ্টা চলছে, বৃষ্টির তোড়ে তা ধুয়ে মুছে সাফ। বেলঘরিয়া এলাকার চিত্র আরও ভয়াবহ। অটোচালক থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী—সবারই অভিযোগ, খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করাই এখন দায়।
প্রচারে শান দিচ্ছে বিরোধীরা
বৃষ্টির জমা জলকে প্রচারের মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন বিজেপি ও বাম প্রার্থীরা। বরানগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নিয়োগীপাড়া-ডোমবাগান এলাকায় জমা জলের মধ্যেই প্রচার চালান। শাসক দলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, এলাকার বিধায়ক বরানগরকে ‘গামলা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, আর বৃষ্টির জল সেই গামলাকেই এখন পূর্ণ করে তুলেছে।
অন্যদিকে, পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত ছাতা মাথায় দিয়ে জলমগ্ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে সরব হয়েছেন। একইভাবে বরানগরের বাম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্রও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করেছেন। তাঁদের দাবি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পুকুর ভরাট করার ফলেই আজ সামান্য বৃষ্টিতে শহরতলির এই করুণ দশা।
ক্ষোভের মুখে শাসক দল
এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে জমা ক্ষোভ এখন স্পষ্ট। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ভোটের আগে তড়িঘড়ি রাস্তা সারাইকে অনেকেই ‘আইওয়াশ’ বা লোক দেখানো কাজ বলে মনে করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বাম আমলে জলাশয় থাকায় জল দ্রুত নেমে যেত, কিন্তু এখন সেই পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি চরম সীমায় পৌঁছেছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই নাগরিক অসন্তোষ ব্যালট বক্সে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
একঝলকে
- বরানগর ও কামারহাটির রাস্তাঘাট এবং নিকাশি ব্যবস্থার চরম দুরবস্থা।
- ভোটের মুখে তড়িঘড়ি পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলেও বৃষ্টিতে তা পণ্ড হয়েছে।
- জমা জলকে কেন্দ্র করে সজল ঘোষ ও কলতান দাশগুপ্তের মতো বিরোধী প্রার্থীদের তীব্র প্রচার।
- অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাশয় ভরাটকে জল জমার প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
- দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পর ভোটের আগে রাস্তা সারাই নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ।