উত্তর সিকিমে ১২০০ পর্যটককে উদ্ধারে নামল সেনাবাহিনী ও প্রশাসন

উত্তর সিকিমের লাচেনে ধসের কারণে আটকে পড়া ১২০০-এর বেশি পর্যটককে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম পাহাড়ি রাস্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিআরও এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে বিচ্ছিন্ন থাকার পর বিকল্প পথে পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কেন এই বিপর্যয় এবং বর্তমান পরিস্থিতি

গত রবিবার মাঙ্গান জেলার লাচেন থেকে চুংথাং সংযোগকারী সড়কের তারুম চু সেতুর কাছে বড়সড় ধস নামে। এর ফলে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১,২৫০ জন পর্যটক আটকা পড়েন। মাঙ্গান জেলা প্রশাসন নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ওই রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। তবে বুধবার সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।

উদ্ধার অভিযানে নতুন কৌশল

রাস্তা মেরামতের কাজ চললেও পর্যটকদের দ্রুত সরিয়ে নিতে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে প্রশাসন।

  • বিকল্প রুট: পর্যটকদের ডংকিয়া লা হয়ে শিব মন্দির, জিরো পয়েন্ট এবং ইয়ুমথাং-লাচুং রোড দিয়ে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হচ্ছে।
  • যৌথ উদ্যোগ: মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন এবং সিকিম পুলিশের তত্ত্বাবধানে এই উদ্ধারকাজ চলছে। এতে যোগ দিয়েছে লাচেন জুমসা, স্থানীয় যুব সংগঠন, হোটেল অ্যাসোসিয়েশন এবং পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
  • ছোট ছোট দল: পাহাড়ের বন্ধুর প্রকৃতি ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কথা মাথায় রেখে পর্যটকদের ছোট ছোট ব্যাচে ভাগ করে উদ্ধার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মানবিক ভূমিকা ও প্রশাসনিক তৎপরতা

বিপর্যয়ের এই মুহূর্তে স্থানীয় পাহাড়ি মানুষের আতিথেয়তা এবং লড়াকু মানসিকতা নজর কেড়েছে। স্থানীয় চালক এবং হোটেল মালিকরা আটকে পড়া পর্যটকদের খাবার ও আশ্রয় দিয়ে সহযোগিতা করছেন। জেলাশাসক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন। মেঘ কেটে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করায় উদ্ধারকাজে গতি এসেছে, যা সমতলে থাকা পর্যটকদের পরিবারের দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব করেছে।

একঝলকে

  • আটকে পড়া পর্যটক: প্রায় ১,২৫০ জন।
  • বিপর্যস্ত এলাকা: লাচেন ও চুংথাং সংযোগকারী তারুম চু সেতু এলাকা।
  • উদ্ধারকারী দল: ভারতীয় সেনা, বিআরও, ডিডিএমএ এবং স্থানীয় সংগঠন।
  • উদ্ধার রুট: ডংকিয়া লা, শিব মন্দির ও জিরো পয়েন্টের বিকল্প পথ।
  • বর্তমান অবস্থা: পর্যটকদের ছোট দলে ভাগ করে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *