ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সায় ইরানের, ১০ দফা শর্তে শুক্রবার ইসলামাবাদে মেগা বৈঠক
দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি জানাল ইরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য এই সামরিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে রাজি হয়েছে তেহরান। নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা আলি খামেনেই খোদ এই প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও আমেরিকার সামনে ১০ দফা কঠিন শর্ত রেখেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে বাজেয়াপ্ত হওয়া ইরানের যাবতীয় সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী শান্তি সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান সরকার।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে পাকিস্তান ছাড়াও চিনের বড় ধরনের চাপ কাজ করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেইজিং এবং ইসলামাবাদ উভয়েই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে মার্কিন সেনাকে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ইজরায়েলও সাময়িকভাবে সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি তুলেছিলেন যে, তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই প্রণালী দিয়ে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকলে তাঁরাও আক্রমণ করবেন না। সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে এই ১০ দফা শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সেখানে মার্কিন ও ইরানি উচ্চপদস্থ কর্তারা মুখোমুখি বসে সংঘাত নিরসনের পথ খুঁজবেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। আপাতত দুই সপ্তাহের এই বিরতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।