প্রেশার সুগার থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ৭৬৭টি প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম বাড়াচ্ছে কেন্দ্র

দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে বড় টান পড়তে চলেছে। ওষুধের পাইকারি মূল্য সূচকের (ডব্লিউপিআই) ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৭৬৭টি জীবনদায়ী ওষুধের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাইকারি মূল্য সূচকে ০.৬৪ শতাংশ পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হচ্ছে। তালিকায় রয়েছে উচ্চরক্তচাপ, বহুমূত্র বা সুগার এবং অ্যান্টিবায়োটিকের মতো অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ।

এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসার খরচ অনেকটাই বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত ওষুধ কেনা এখন আরও ব্যয়সাধ্য হয়ে উঠবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যে বাজেটে বড় প্রভাব পড়বে।

মূল্যবৃদ্ধির এই আবহে ব্যবসায়ীরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তাদের দাবি, তালিকায় থাকা জীবনদায়ী ওষুধগুলোর প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে খোলা বাজারে অমিল। প্রয়োজনীয় ওষুধের এই কৃত্রিম সংকট সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাজারে জোগানের অভাব থাকায় রোগী ও তাদের আত্মীয়রা চরম সমস্যায় পড়ছেন।

অন্যদিকে, চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্বাস্থ্য মহলের একাংশের দাবি, অনেক চিকিৎসকই প্রেসক্রিপশনে এই নির্দিষ্ট তালিকার ওষুধগুলো লিখছেন না। এর পরিবর্তে অন্য ব্র্যান্ডের দামী ওষুধ লেখার ফলে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা পরিষেবার মূল উদ্দেশ্যই বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকায় দাম বাড়লেও বাজারে ওষুধের পর্যাপ্ত জোগান না থাকা এবং চিকিৎসকদের একাংশের অনীহা চিকিৎসা পরিষেবাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে ওষুধের আকাল—এই জোড়া ফলায় সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা। অবিলম্বে ওষুধের জোগান স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

সব মিলিয়ে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া নিয়ে দেশজুড়ে সংশয় দানা বাঁধছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে স্বাস্থ্য পরিষেবা চলে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যথাযথ নজরদারির অভাবে ওষুধের এই আকাল ও মূল্যবৃদ্ধি জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *