চোপড়ায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের সমীকরণ: ভোট ভাগাভাগিতে আশাবাদী বিজেপি

উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক লড়াই এখন তুঙ্গে। গত লোকসভা নির্বাচনে ৯২ হাজার ভোটের বিশাল লিড নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী হামিদুল রহমান আত্মবিশ্বাসী থাকলেও, দীর্ঘ দুই দশক পর কংগ্রেসের প্রার্থী প্রদান সমীকরণ বদলে দিয়েছে। তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা জাকির আবেদিন কংগ্রেসের হয়ে ময়দানে নামায় শাসক শিবিরের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাঙনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে।
তৃণমূল যখন উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত, বিজেপি তখন হিন্দু রাজবংশী ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক সংহত করার পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোট বিভাজনের অঙ্কে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর অধিকারী দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের অভাবকে হাতিয়ার করে প্রচার চালালেও দলীয় অন্তকোন্দল তাঁর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বাম প্রার্থী মকলেসর রহমান হারানো জমি ফিরে পেতে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে জোর দিচ্ছেন।
এই কেন্দ্রের ৬৩ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটারের মেরুকরণই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কংগ্রেস ও বামেরা যত বেশি ভোট কাটবে, বিজেপির লড়াই তত সহজ হবে—এই তত্ত্বই এখন চোপড়ার রাজনীতির মূল আলোচ্য বিষয়। শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের তাস নাকি ভোট ভাগাভাগির অঙ্ক কাজ করবে, তা নিয়ে সরগরম গোটা জেলা।