খালি সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ মমতার ১১ বিশ্ববিদ্যালয়পরিকাঠামোহীনতায় বিপন্ন উচ্চশিক্ষা – বর্তমান নিউজ

পশ্চিমবঙ্গে উচ্চশিক্ষার প্রসারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ১৬টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হলেও বাস্তবের চিত্র অত্যন্ত করুণ। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ঘোষিত ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা শোচনীয়। এর মধ্যে ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও স্থায়ী ঠিকানা ছাড়াই বিএড কলেজের হস্টেল বা সরকারি স্কুলের ঘরে কোনোমতে চলছে। নিজস্ব ল্যাবরেটরি বা লাইব্রেরি না থাকায় পঠনপাঠন কার্যত লাটে উঠেছে।
হরিচাঁদ গুরুচাঁদ থেকে রানি রাসমণি গ্রিন ইউনিভার্সিটি—সর্বত্রই স্থায়ী অধ্যাপকের আকাল। ইউজিসি নির্ধারিত নামমাত্র সাম্মানিকের বিনিময়ে অতিথি শিক্ষকদের দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে। দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু চরছে, আবার হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয় চলছে পুরসভার পরিত্যক্ত ভবনে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে ছাত্র ভর্তির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে এবং অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছেন।
রাজ্য ও রাজভবনের দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং আইনি জটিলতাকে এই অচলাবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে উপাচার্য নিয়োগ হয়েছে, তবুও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় কমে যাওয়ায় এবং নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।