২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন: মিম, আইএসএফ ও এজেপিইউ-এর ত্রিমুখী লড়াইয়ে কার ঘরে যাবে সংখ্যালঘু ভোট? – বর্তমান নিউজ

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক দখলে রাখতে মরিয়া ঘাসফুল শিবিরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মিম, পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর আইএসএফ এবং হুমায়ুন কবীরের নবগঠিত আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেপিইউ)। বিগত নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ে মুসলিম ভোট বড় ভূমিকা রাখলেও এবার সমীকরণ বদলেছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো জেলাগুলোতে নিজেদের সংগঠন মজবুত করে এবার কোমর বেঁধে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছে এই তিন শক্তি, যা শাসক দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ইতিমধ্যেই এজেপিইউ ও মিম জোট বেঁধে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে এবং মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে। অন্যদিকে, বামেদের সঙ্গে আইএসএফ-এর জোট হওয়ায় রাজনৈতিক লড়াই আরও বহুমুখী হয়ে উঠেছে। হুমায়ুন কবীরের দল বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিলেও কৌশলে একাধিক হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যা নির্বাচনী রণকৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থানের পর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট বিভাজন রুখতে তৃণমূলকে বাড়তি ঘাম ঝরটাতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে মিম ও এজেপিইউ-এর সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসানো এবং অন্যদিকে বাম-আইএসএফ জোটের ভোট কাটাকুটির খেলায় শেষ হাসি কে হাসবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারেবারে বাম-বিজেপি আঁতাঁতের অভিযোগ করলেও তৃণমূলের লক্ষ্য এখন নিজেদের ভোট ব্যাংক অটুট রাখা। মূলত ভাঙড় বাদে অন্যান্য এলাকায় এই জোটের প্রভাব শাসক দলের জন্য লাভদায়ক না ক্ষতিকর হবে, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর।