সীমান্তে উদ্বেগ বাড়িয়ে সিচুয়ানে পরমাণু অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণ করছে চিন

অরুণাচল প্রদেশ থেকে মাত্র ৮০০ কিলোমিটার দূরে চিনের সিচুয়ান প্রদেশে গোপনে পরমাণু অস্ত্রাগারের ব্যাপক আধুনিকীকরণ চলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গিয়েছে, জিটং এবং পিংটং উপত্যকার পাহাড়ি এলাকায় নতুন বাঙ্কার, প্রাচীর এবং উন্নত ভেন্টিলেশন সিস্টেম তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সুরক্ষিত পরিকাঠামো মূলত উচ্চ বিস্ফোরক পরীক্ষা এবং পরমাণু ওয়ারহেডের কোর তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের বর্তমান পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১,০০০-এ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বেজিং। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পরিকাঠামো উন্নয়ন চিনের বিশ্বশক্তি হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিফলিত করছে। বিগত দুই দশকে বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরনো ল্যাবগুলো পুনরায় সক্রিয় করে কয়েক হাজার বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করা হয়েছে।
সিচুয়ানের এই সামরিক তৎপরতা ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিনের এই দ্রুত অস্ত্রবৃদ্ধি এবং পরিকাঠামোগত পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ায় পরমাণু শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের স্থাপত্য অনেকটা আমেরিকার লস আলামোস ল্যাবরেটরির আদলে তৈরি, যা চিনের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পরিকল্পনারই অংশ।