সাফাইয়ে গতি আনতে ৬৯টি আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি নামাল কলকাতা পুরসভা

মাত্র ছয় থেকে সাত ফুটের রাস্তাও সাফ করা যাবে এর সাহায্যে। এজন্য ছোটো মাপের ব্যাটারিচালিত অত্যাধুনিক ‘মেকানিক্যাল সুইপার’ বা ‘স্বয়ংক্রিয় ঝাড়ু’ চালু করেছে কলকাতা পুরসভা। আপাতত ২০টি এমন ছোট আকারের মেকানিক্যাল সুইপার কেনা হয়েছে। পাশাপাশি, বড় রাস্তা সাফাই করার জন্য আধুনিক ‘স্বয়ংক্রিয় ঝাড়ু’ও নামানো হল। এই মেশিন একদিকে যেমন ‘ভ্যাকুয়াম ক্লিনার’-এর কায়দায় রাস্তা সাফাই করতে পারবে, তেমনই রাস্তায় জলও ছিটিয়ে দিতে পারবে। সিএনজিচালিত এমন বড় আকারের ২০টি মেশিনও কেনা হয়েছে। ব্যাটারি এবং সিএনজিচালিত এমন বিভিন্ন ধরনের ৬৯টি গাড়ি-মেশিন পথে নামাল কলকাতা পুরসভা। সম্প্রতি এগুলির উদ্বোধন করেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সব মিলিয়ে মেশিনগুলি কিনতে ৯০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার জঞ্জাল সাফাই এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটো রাস্তায় বড় মেকানিক্যাল সুইপার ঢোকাতে সমস্যা হয়। তাই ছোটো আকারের ব্যাটারিচালিত মেকানিক্যাল সুইপার নামানো হল। একবার চার্জ দিলে এই গাড়ি প্রায় আট ঘণ্টা চলবে। এক পুরকর্তা বলেন, ইতিমধ্যে মুম্বই, ইন্দোর এবং নাসিকে এই ধরনের মেশিনে সাফাইয়ের কাজ হচ্ছে। পুরসভার প্রতিনিধিদল গিয়ে সেই কাজ দেখেও এসেছে। মেশিনগুলির কর্মক্ষমতাও আশানুরূপ। মেয়র বলেন, শহর সাফাই করতে এই আধুনিক মেশিন আরও ভালো কাজ করবে। এক পুরকর্তা বলেন, এই নতুন ধরনের সিএনজিচালিত বড় মেকানিক্যাল সুইপারগুলি কার্যত এক একটি ‘অল ইন ওয়ান’। পুরনো মেশিনগুলি শুধুমাত্র রাস্তায় ঝাড়ু দিতে এবং ময়লা-আবর্জনা, ধুলো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার পদ্ধতিতে ভিতরে টেনে নিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে প্রচুর ধুলো ওড়ে। কিন্তু নতুন মেশিনগুলিতে এভাবে সাফাইয়ের পাশাপাশি রাস্তায় জল ছিটানোর স্প্রিংকলারও থাকছে। তাতে রাস্তায় ঝাড়ু পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জল ছিটানো হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। ফলে এই মেশিন চলার সময়ে ধুলো উড়বে না।
জানা গিয়েছে, এছাড়াও কেনা হয়েছে ১৫টি বিশেষ ধরনের ‘ওয়াটার স্প্রিংকলার’, জঞ্জাল সাফাই করতে চারটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মতো সাকশান মেশিন। এর বাইরে এসেছে ১০টি ‘ব্যাক হো লোডার’। এগুলি দিয়ে ভারী জঞ্জাল, যেমন নির্মাণ বর্জ্য ইত্যাদি তোলা যাবে। এছাড়া মাটি খুঁড়তে বা গর্ত বোঝাই, অর্থাৎ ‘ল্যান্ডফিল্ড’ করতেও ব্যবহার করা যাবে।