সাফল্যই শেষ কথা নয়, মানুষের ভালোবাসাই চন্দন সেনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ

বাংলা থিয়েটার জগতের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা চন্দন সেন নিজের জীবনদর্শন ও আর্থিক বাস্তবতা নিয়ে মুখ খুললেন। অতি সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে আসা এই শিল্পী জানান, দীর্ঘ অভিনয় জীবনে উপার্জনের সিংহভাগই তিনি থিয়েটারের পেছনে ব্যয় করেছেন। ফলে ব্যক্তিগত সঞ্চয় বলতে তাঁর প্রায় কিছুই নেই। এমনকি অসুস্থতার কঠিন সময়েও তিনি আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা তাঁকে জীবনের রূঢ় বাস্তবতার সম্মুখীন করেছে।
বিপদের দিনে নিঃস্বার্থ মানবিকতাই ছিল অভিনেতার একমাত্র সম্বল। চন্দন সেন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন সেই ছয়জন চিকিৎসককে, যাঁরা বিনামূল্যে তাঁর চিকিৎসা করেছেন। তিনি জানান, অসুস্থ থাকাকালীন অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের অফুরন্ত ভালোবাসা তাঁকে একাকীত্ব অনুভব করতে দেয়নি। কোনো বৈষয়িক সম্পদ নয়, বরং মানুষের এই অকৃত্রিম শ্রদ্ধাবোধ ও পাশে থাকাকেই তিনি জীবনের পরম প্রাপ্তি বলে মনে করেন।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সম্প্রতি সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য পেয়েছেন এই অভিনেতা। ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্টস ফোরামের নির্বাচনে বামপন্থী প্যানেল থেকে লড়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হয়েছেন চন্দন সেন ও দেবদূত ঘোষ। তাঁদের এই জয়কে টলিউডের শিল্পীমহলে এক বিশেষ আদর্শগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টুডিওপাড়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়া— সর্বত্রই এখন এই জয় ও শিল্পীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে জোর চর্চা চলছে।