রঞ্জি ট্রফি: ‘খেলো প্রতিপক্ষ’ থেকে ফাইনালে জম্মু-কাশ্মীরের ঐতিহাসিক উত্থান

রঞ্জি ট্রফির ৬৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে উঠে চমক দিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। একসময় উত্তর জোনের দুর্বল দল হিসেবে পরিচিত হলেও, সেমিফাইনালে শক্তিশালী বাংলাকে হারিয়ে তারা এখন শিরোপার দাবিদার। আব্দুল সামাদের ঝোড়ো ব্যাটিং এবং অধিনায়ক পরশ দোগরার অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এই রূপান্তরের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়।
দলের এই অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে কঠোর শৃঙ্খলা এবং কোচিং স্টাফদের পরিকল্পনা। প্রধান কোচ অজয় শর্মা ও বোলিং কোচ পি কৃষ্ণ কুমারের অধীনে বোলারদের ধার বেড়েছে। বিশেষ করে পেসার আকিব নবী ৯ ম্যাচে ৫৫ উইকেট নিয়ে দলের প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন। এছাড়া নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়মিত রান করার সক্ষমতা দলকে বাড়তি ভারসাম্য প্রদান করেছে, যা কঠিন সময়েও জয় ছিনিয়ে আনতে সাহায্য করছে।
বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট দল কেবল হার বাঁচানোর লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং যেকোনো পরিস্থিতিতে জয়ের মানসিকতা তৈরি করেছে। ফিটনেস এবং কৌশলী ফিল্ডিংয়ের উন্নতি তাদের পারফরম্যান্সকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বারামুল্লার সাধারণ মাঠ থেকে আইপিএল এবং এখন রঞ্জি ফাইনাল—জম্মুর এই ক্রিকেটীয় বিপ্লব ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। তারা এখন কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং যোগ্য প্রতিযোগী হিসেবেই মাঠে নামছে।