ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ: বর্ধমানে তীব্র উত্তেজনা, কাঠগড়ায় কমিশন – বর্তমান নিউজ

পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ব্লকে ভোটার তালিকা থেকে রেকর্ড সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্ধমান শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৮৩ জন এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৬০৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যাদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। জামালপুর থেকে আউশগ্রাম—সর্বত্রই একই চিত্র ফুটে উঠেছে। এমনকি আউশগ্রামের পঞ্চায়েত উপপ্রধান জিয়াউল হকের নামও তালিকা থেকে উধাও হয়েছে। পরিবারের অর্ধেক সদস্যের নাম থাকলেও বাকিদের নাম বাদ পড়ায় চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বাসিন্দারা।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির ছক অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু এবং মহিলা ভোটারদের লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে ‘বিবি’ বা ‘খাতুন’ পদবির জটিলতা এবং বানানের সামান্য হেরফেরকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি তন্ময় সিংহরায়ের দাবি, বংশপরম্পরায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদেরও ‘রোহিঙ্গা’ তকমা দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা এবং তারা নিজস্ব নিয়মেই কাজ করছে। বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ বলেন, রাজনৈতিক আন্দাজ বা অংকের সঙ্গে কমিশনের কাজের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় এখনো বহু ভোটারের নাম বিচারাধীন রয়েছে, যার সঠিক সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি। দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু ও মতুয়া ভোটারদের নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে বেশি, যা নিয়ে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে।