বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

সিন্ধু জলচুক্তির আবহে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতির পর এবার সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের একটি মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিভি নাগরত্না ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানির সময় বর্তমান সামাজিক সম্পর্কের ধরন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে জানান যে, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি তাঁদের কাছে অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বিচারপতিদের মতে, বিয়ের আগে নারী ও পুরুষের একে অপরের প্রতি আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটের মাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় করেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিল্লি ও দুবাইয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁর সম্মতি ছাড়াই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য একজনকে বিয়ে করেন। এই ঘটনায় বিচারপতি নাগরত্না মন্তব্য করেন যে, বিয়ের আগে সম্পর্কের গভীরতা বিচার না করে কাউকে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং কোনো ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্ক হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা কঠিন।

নিম্ন আদালত ও দিল্লি হাইকোর্ট ইতিপূর্বেই অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল যে, অভিযুক্ত বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা শুরু থেকেই প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য ছিল। সুপ্রিম কোর্ট মামলার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে শুনানি আগামী বুধবার পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে। শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা এবং আইনি সংজ্ঞার দ্বন্দ্বকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *