বালিগঞ্জ বিধানসভা: ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি তারুণ্য – বর্তমান নিউজ

কলকাতার অভিজাত ও বৈচিত্র্যময় বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৬ সালের নির্বাচনে এক টানটান ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অভিজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ওপর আস্থা রেখেছে। অন্যদিকে, বামফ্রন্ট গত উপ-নির্বাচনের সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে তরুণ ও শিক্ষিত মুখ আফরিন বেগমকে ময়দানে নামিয়েছে। এই দ্বৈরথে গেরুয়া শিবিরের তুরুপের তাস শতরূপা, যিনি মূলত শিক্ষিত ও অবাঙালি হিন্দু ভোটারদের সংহতি আদায়ের চেষ্টা করছেন।
২০১১ সাল থেকে এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও, ২০২২ সালের উপ-নির্বাচনে বামেদের ভোট বৃদ্ধি সমীকরণ কিছুটা বদলে দিয়েছে। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর বাবুল সুপ্রিয় জয়ী হলেও লড়াই ছিল তুলনামূলক কঠিন। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে শোভনদেব জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। তবে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবং এলাকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো তাঁর পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বালিগঞ্জের নির্বাচনী ফলাফলে পার্ক সার্কাস ও ল্যান্সডাউন এলাকার সংখ্যালঘু ভোট এবং আলিপুরের অভিজাত ভোটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন নিবিড় জনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে সুউচ্চ বহুতল। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বামেদের থাবা বসানোর চেষ্টা এবং বিজেপির ভোট শতাংশের ওঠানামা শেষ পর্যন্ত কার জয়ের পথ প্রশস্ত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের এই লড়াইয়ে বালিগঞ্জ এবার বিশেষ নজর কাড়বে।