বাংলাদেশে ঘনীভূত রাজনৈতিক সংকট: শপথ গ্রহণ ঘিরে বিএনপি ও জামাত জোটের সংঘাত

বাংলাদেশে নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ভোট কারচুপি ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বিতর্ক থামেনি। সংসদকে সংবিধান সংস্কার পরিষদে রূপান্তর করার প্রস্তাব ঘিরে শরিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিএনপি পূর্ণ শপথ নিতে রাজি না হওয়ায় জামাত-ই-ইসলামি ও এনসিপি সংসদ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।
জামাত ও এনসিপি নেতারা বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ফ্যাসিবাদ’ আখ্যা দিয়ে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। নোয়াখালীতে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা নতুন সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন। সংস্কার ছাড়া সংসদ গঠনকে তারা অর্থহীন ও প্রহসন বলে দাবি করেছেন। এই সংঘাতের ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের ব্যর্থতা ও ক্রমবর্ধমান মৌলবাদী প্রভাব বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিদায়ী সরকারের ভারত-বিরোধী অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ অরাজকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। একদিকে সংসদের ভেতরে আইনি লড়াই, অন্যদিকে রাজপথে ইসলামি জোটের আন্দোলনের প্রস্তুতি— সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এক দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।