পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা তুঙ্গে

জেনেভায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পারমাণবিক আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরান ‘গঠনমূলক অগ্রগতির’ দাবি করলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগে চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে রেকর্ডসংখ্যক সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় এফ-৩৫ ও এফ-২২ সহ ৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও নজরদারি ড্রোন অঞ্চলটিতে অবস্থান নিয়েছে।
সামরিক শক্তির এই প্রদর্শনীতে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগরে অগ্রসরমান ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক এবং একাধিক বিমানবাহী রণতরী। জর্ডানের বিমানঘাঁটিতেও পৌঁছেছে এক ডজন এফ-১৫ ঈগল ও এ-১০ থান্ডারবোল্ট বিমান। যুক্তরাষ্ট্রের এই সাঁড়াশি অবস্থানের বিপরীতে ইরানও নিজেদের শক্তি জানান দিচ্ছে। দেশটির সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর একাংশ সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
উভয় পক্ষ নীতিমালায় একমত হলেও অমীমাংসিত অনেক ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা বহাল রয়েছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্তে নজিরবিহীন সমরভাণ্ডার মোতায়েন করে সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় বিরাজমান এই থমথমে পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কূটনৈতিক সাফল্যের বদলে শেষ পর্যন্ত সামরিক সংঘর্ষের পথে পরিস্থিতি মোড় নেয় কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন।